![]() |
| Artist Ganesh Pyne at work mood |
বিখ্যাত শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন একবার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন 'এক সহস্রাব্দে একজন গণেশ পাইন যথেষ্ট'। তাই মৃত্যুর আট বছর পরে আজও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বলা হয়ে থাকে যে, অনুজ শিল্পী ও দর্শকের কাছে তিনি ও তাঁর শিল্পকর্মগুলি নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার বিষয়। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এবং বিদেশের বিখ্যাত নিলামঘরগুলিতে প্রতিনিয়ত তাঁর শিল্পকর্মের উৎসাহিত সংগ্রাহকের আনাগোনাকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না।
অথচ ভ্রমণের প্রতি অনীহা ছিল তাঁর। কলেজ জীবন এবং বার্ধক্যে দোরগোড়ায় বিবাহ-পরবর্তী কিঞ্চিৎ বিদেশ ভ্রমণ বাদ দিলে আজীবন উত্তর কলিকাতায় পৈতৃক ভিটায় নির্দিষ্ট প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরটিতে তিনি কাটিয়েছেন। সেই ঘরেই সৃষ্টি করেছেন জীবনের অধিকাংশ সেরা শিল্পকর্মগুলি। এই ঘরে এবং বসন্ত কেবিনে আগাগোনা ছিল সাংস্কৃতিক জগতের দিকপালগণের। পড়াশুনা,আলোচনা ও আড্ডায় পরস্পর সমৃদ্ধ হতেন। অনুজ শিল্পীরাও প্রয়োজনীয় রসদ ও উৎসাহ পেতেন শিল্পীর সাহ্নিধ্যে। জীবনের শেষপর্বে কিছু বছর বাসাবদলের ছাপ গভীরভাবে পড়েছিল শিল্পী গণেশ পাইনের শিল্পসৃষ্টিতে। পরিবর্তন ঘটেছিল তাঁর রচনাকৌশলে, ছিন্নমূল প্রভাব খুব করে পরিলক্ষিত হয়েছিল পরবর্তী রচনাগুলিতে।
গণেশ পাইনের ছবি মূলত আত্মজৈবনিক, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে শিল্পী পৌঁছে যান এক অজানা বৌদ্ধিক জগতে ... নান্দনিকতার অন্য মাত্রায়। ছবিতে সরাসরি সমকালকে হাজির করেন নি, সহজে ধরা যায় না প্রত্যক্ষ সময়কে ... আপাত এই জটিল রচনার পর্দা সরাতে পারলেই দর্শকের কাছে ধরা দেয় আলোচ্য বৌদ্ধিক জগতটি , অনুভবে আসে এক মগ্ন ডুবুরীর উপস্থিতি যিনি গভীরে ডুব দিয়ে ফিরে আসেন আমাদের সহজ সরল এই জগতে।
'ফর্ম, স্পেস আর বর্ণের সমাহার যা দাঁড়ায় তাইই পেইন্টিং। রঙ ঐ নকশার ওপর সঙ্গীতের সুর বিস্তারের মতো ছন্দমীড় ঝংকার তোলে। ওই সব উপাদানের ওপর ভর করে গড়ে ওঠে স্টাইল' ... বলেছিলেন গণেশ পাইন মহাশয়। তাঁর শিল্পকলায় বাংলার রূপকল্পের সাথে তিনি মিশিয়েছেন পাশ্চাত্যের আধুনিক দর্শনের নির্যাস। বলা যেতে পারে শিল্পী বিনোদবিহারীর অন্যতম যোগ্য উত্তরসূরি। সেই কারণে আজও গণেশ পাইন এক বহু আলোচিত অধ্যায়, মৃত্যুর পরেও তিনি প্রাসঙ্গিক ... এক বিরল শিরোপার অধিকারী। ওনার জন্মবার্ষিকীতে ওনাকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা।



