কেমন হতে পারে নবদম্পতির মিলনের পরমুহূর্তের ছবি, যেখানে যৌন আনন্দের জৈবিক ও মানসিক রেশ বর্তমান মাত্র। নেই কোনো নগ্ন দেহের উপস্থিতি। ছবির শিরোনাম 'দ্য ব্রাইডাল বেড' অর্থাৎ সোজা কথায় ফুলসজ্জার রাত। যেরাতে দুই নারী-পুরুষ তাদের প্রথম যৌন মিলনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে সদ্য। কি ধরণের চিহ্ন প্রণব এখানে ব্যবহার করেছেন বিষয়টিকে চিত্ররূপ দিতে। একটি পাশবালিশ, একটি বালিশ, কাপড়ের টুকরো, কিছু ফুল। এবার দেখবো কিভাবে এই উপাদানগুলি প্রণব সাজিয়েছেন। একটি আধুনিক খাটের গায়ে উজ্জ্বল হলুদরঙা একটি বালিশ ঠেস দেওয়া আছে। তার গায়ে সাদারঙা পাশবালিশ এলিয়ে পড়ে আছে। পাশবালিশের গায়ের উপর দিয়ে একটি লাল গাঢ় চাদর খাটের দুপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু ফুল ইতস্তত ছড়ানো আছে। এলিয়ে পড়া পাশবালিশকে রতিক্লান্ত পুরুষ ভেবে নিতে খুব কল্পনার প্রয়োজন হয় না। বালিশটি রূপান্তরিত হয় নববধূতে, সামান্য লজ্জিত হয়ে একটু কুঁকড়ে আছে, পিছনের খোলা আকাশ বা গোপনীয়তা আড়াল করেছে যে পর্দাটি সেটি টাঙানো মশারী বলেই মনে হবে। খাটের চাদরকে শীতলা রঙা বানিয়েছেন প্রণব ফালি ফালি নীল ও বেগুনী কাগজের সাহায্যে। যাতে দৃষ্টি সম্পূর্ণ রূপে নবদম্পতিতে মনোযোগী হয়। ছড়ানো ফুল সেই বিশেষ দিনের ইঙ্গিত বয়ে নিয়ে আসে। বৌবাহিক অনুষঙ্গ লালচাদর, কাম-সর্বস্ব লাল নয়। এ প্রেমের লাল। তাই গাঢ়; চটকদার টকটকে আগুন লাল নয়। হিসাবের পরিচয় পাওয়া যায় ফুলগুলির উপস্থাপনায়, ছড়ানো ফুলের কোনোটিকেই আলাদা করা যাবে না। বা মুছে ফেলা যাবে না। এটি প্রণব করে থাকেন জটিল আঙ্কিক নিয়মে। সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব। বর্ষীয়ান শিল্পী যোগেন চৌধুরীর এই ধরণের একটি কাজ পাওয়া যায় 'রেমিনিসেন্সের অফ ড্রিম' সিরিজে, সদ্য বিবাহিত যোগেনের সেই অনুভূতির উপর সেই সময়কার কাজ, আর প্রণব করলেন যৌবনের শেষ প্রান্তে এসে। পার্থক্য শুধু এতটুকুই।
প্রণব ফৌজদারের শিল্পভাবনা/অনুপম চট্টোপাধ্যায়
