মুখাবয়বের নির্দিষ্ট গঠন তার চরিত্র হারিয়েছে, অনেকগুলো মুখ একের মধ্যে আরেক, কখনো জড়িয়ে কখনো একের উপর আরেক। এমনও আছে যে একটিই রেখা যেন চোখ ফুটিয়ে ভ্রু হয়ে নাক ও থুতনিতে ঠেকেছে। কখনও বা এই সব সরু রেখার খেলা থেকে মোটা মোটা তুলির কালো টানে ফুটে উঠেছে কিছু অবয়ব। যেমনটা দেখি তাঁর আঁকা কালীমূর্তিতে। কালো রঙ ও রেখার গতি সুন্দর এক ছন্দ প্রদান করেছে সমস্ত শরীরে। এখানে কালীর ধারণাটি কালো রূপই যেন প্রধান হয়ে উঠেছে। এখানেও অনেকগুলো চোখ। আমিনার কাজে বার বার এসেছে মানুষের মুখ, কোন একটি রেখায় নয় বহুল রেখার মাধ্যমে প্রাণ পেয়েছে এরা। এদেরও চোখের অবস্থান স্বাভাবিক নয়, এদিক ওদিক কখনও বা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসানো। চোখের দেখার বাইরে অতিমানব সত্ত্বা প্রদান করে কল্পলোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, স্বাভাবিক বা প্রকৃত অবয়ব বলতে যা দর্শক বোঝেন দর্শকের সেই অবস্থানকেই যেন প্রশ্ন করা হয়েছে। নানা দিক থেকে দেখা একটা মুখকে যেন একইসাথে সামনাসামনি দাঁড় করানো হয়েছে দর্শকের মুখোমুখী। কিউবিজমের 'Simultaneous viewpoint'-এর কথা মনে পড়ে যায়। একই সাথে মূর্তরূপ আর বিমূর্ততার অবস্থান তাঁর কাজে।
আমিনা আহমেদ কর - এক অনুচ্চারিত নাম এক অকথিত শিল্পীজীবন / অপর্ণা রায় বালিগা
