. . . তাঁদের নানারকম প্রশ্নে গা ঘামিয়ে নিচ্ছি যখন, একজন ভারি চেহারার মাঝবয়সি খুব একটা আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করেই কাছে এসে আমার বাহুলগ্ন হলেন।
- "কি কিনছেন? কোন শিল্পী?"
আমার মাথায় শিল্পীর নাম তখনও লটকানো নেই, কিন্তু কোনোরকমে নামটি মনে পড়লো। "আচ্ছা"! বললেন সেই অচেনা লোকটি। তারপর কলম বের করে ছোট্ট নোটবইয়ে নামটি লিখে নিলেন। একটু অবাক লাগলো যে দেয়াল থেকে নামিয়ে মাটিতে উপুড় করে শোয়ানো ছবিটা তিনি কি করে দেখলেন।
-"এখানে আর কোনো ছবি পছন্দ হলো?" জানতে চাইলেন। - "কয়েকটি।" ওঁর নাকগলানো স্বভাবটিকে আমি তখন অপছন্দ করতে শুরু করেছি। তরুণ শিল্পী ও ছাত্রদের দলটির সাথে কথা বলতেই ভাল লাগছিল, কিন্তু মূর্তিমান অপদেবতার মতো লোকটি সামনে দাঁড়িয়ে। নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অসীম আস্থা তাঁর। "নর্থ মুম্বইতে আমার একটি গ্যালারী আছে" বলে একটি কার্ড আমাকে দিলেন যে কার্ডে তেমন কোনো তথ্য পেলাম না। আমার হাত ধরে টানতে থাকলেন তিনি - "অন্য যে ছবিগুলো ভালো লেগেছে একটু দেখান তো!" আর সহসাই মনে হল আমার নাম পর্যন্ত জানতে চাননি উনি। আমি কি উনি কিছুই জানেন না। ছবি নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে আমার আদৌ কোনো যোগ্যতা আছে কিনা উনি জানেন না।
বাদামী গ্যালারিতে একজন সাদা মানুষ / ওয়াসো ওয়াসো এক্স (অনুসৃজন : অমিতাভ মৈত্র)
