কবিতা আর ক্যানভাস / অনুপম মুখোপাধ্যায়


বারবার বলা হয়েছে কবিতা এবং ছবির সর্ম্পকের কথা। রবি ঠাকুর ছবি এঁকেছেন। মাইকেলেঞ্জেলো লিখেছেন কবিতা। সেগুলো কবির ছবি, বা শিল্পীর কবিতা হয়নি, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়ে সময়ের দরবারে দাঁড়িয়ে সরলরেখাগুলোয় বাঁক ধরিয়েছে। বেশ চলছিল আলো, একটি অতিরিক্ত কিছুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হল তার বিপদ। সে এমনকি লোকালয়ে এল। থুড়ি থুড়ি ... জনপদে প্রবেশ করিল।
কারণটা নিছক তাঁদের প্রতিভা নয়। প্রভা।
ছবি বা কবিতা যদি হয় দুই অপ্সরা, রবি ঠাকুর-মাইকেলেঞ্জেলোরা তাহলে দ্রোণাচার্যের পিতাজী। আমরা কলসীর মধ্যে উঁকি দেওয়া ছাড়া আর কি করতে পারি? ওখানেই তিরন্দাজ, ওখানেই চাঁদমারি...
যদি বলি, যে কোনো মহৎ স্রষ্টা একটা সময় নিজের মাধ্যমে হাঁফিয়ে ওঠেন, তাহলে কি মারবেন ?
যদি বলি, আমার কাছে চিত্রশিল্প এবং কবিতা আদৌ আলাদা কোনো ব্যাপার নয়, এমনকি একটাই কয়েনের একটাই পিঠ, আমাকে কি নির্বাসনে পাঠাবেন ? পুড়িয়ে মারতে পারবেন না, সে দিন গিয়েছে।
এই পরিসরে নিজের অবিশ্বাস জাহির করলে প্রাণসংশয় হলেও হতে পারে, নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করলে আমার কেউ কিছু করতে পারবে না। করার মতো সময় কথায় লোকের হাতে ?
তবে নির্বাসনে দেওয়া চিরকালই খুব সোজা ব্যাপার। ওতে কারো সময় খরচ হয় না।

কবিতা আর ক্যানভাস / অনুপম মুখোপাধ্যায়

Post a Comment

Previous Post Next Post