কয়েকবছর আগে একটি ভিডিও দেখছিলাম। একজন বৃদ্ধ, বয়সের ভারে ন্যুব্জ মেঝেতে বজ্রাসনে বসে একটি ছোটমাপের সাদা রঙের ক্যানভাসে কালো রঙ তুলিতে ডুবিয়ে অবলীলাক্রমে আঁচড় কেটে প্রথমে ঘোড়ার গণ্ডকেশ থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ ঘোড়া চিত্রিত করলেন, ব্যাল্যান্স এর
প্রয়োজনে পাশে একটি ঘোড়ার মাথা দিলেন। তারপর চিত্রপটে বাকি অংশের অধিকাংশটি টকটকে লাল রঙে ভরাট করলেন এবং সবশেষে ছবির মধ্যভাগের শূন্যস্থানটিতে নরম নীলরঙ লেপে ক্যানভাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। বর্ননা শুনেই পাঠক বুঝতে পারছেন ঐ শিল্পী হলেন Maqbool Fida Husain, যিনি M. F. Husain নামের বেশি পরিচিত।
আলোচিত চার মিনিট বত্রিশ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে যেটি সবথেকে লক্ষণীয় বিষয় সেটি হলো যে বয়সে একজন সাধারণ ভারতীয় বয়সের ভারে সমাজ বা জীবিকা থেকে সবরকমের অবসর নিয়ে নেন, সেখানে শিল্পী হুসেনের তুলি তখনো চীন/জাপানী শিল্পীদের মতন আত্মবিশ্বাসী সাধক। এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারলে সেটি শিল্পীর কয়েক জন্ম সাধনার ফল বলে মনে হবে। আসলে শিল্পী হুসেনের কাছ থেকে শেখবার যে কটি বিষয় আছে তার মধ্যে এটি একটি ... অর্থাৎ একটি স্পেসকে কিভাবে ভরাট করতে হয়। কিভাবে একটি অতি সাধারণ বিষয়কে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়ে পরিণত করা যায়।
আজ শিল্পী হুসেনের দশম প্রয়াণ দিবসে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।
ছবি সৌজন্যতা - google


