কথাগুলি শিল্পগুরু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ... যার তুলি ও কলম চলত সমান তালে। বলতেন "ছবি দেশীমতে ভাবতে হবে, দেশীমতে দেখতে হবে। "উদাহরণ দেখিয়ে বলেছিলেন, "রবিবর্মাও তো দেশীমতে ছবি এঁকেছিলেন, কিন্তু বিদেশী ভাব কাটাতে পারেন নি, সীতা দাঁড়িয়ে আছে ভিনাসের ভঙ্গীতে। সেইখানে হল আমার পালা। বিলিতি পোর্ট্রেট আঁকতুম, ছেড়েছুড়ে দিয়ে পট পটুয়া জোগাড় করলুম। যে দেশে যা-কিছু নিজের নিজের শিল্প আছে, সব জোগাড় করলুম। যত রকম পট আছে সব স্টাডি করলুম, সেই খাতাটি এখনো আমার কাছে। তার পর দেশীমতে দেশী ছবি আঁকতে শুরু করলুম। এক-এক সময়ে এক-একটা হাওয়া আসে, ধীরে ধীরে আপনিই চালিয়ে নিয়ে যায়। দড়িদড়া ছিঁড়ে ঝাঁপিয়ে পড়লুম, নৌকা দিলুম খুলে স্রোতের মুখে। "
"ছবি আঁকা শিখতে কদিন লাগে ? বেশি দিন না, ছ-মাস, আমি শিখিয়েছিও তাই। । ছ-মাসে আমি আর্টিষ্ট তৈরী করে দিয়েছি। এর বেশি সময় লাগা উচিত নয়। এরই মধ্যে যাদের হবার হয়ে যায় - আর যাদের হবে না তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত; হ্যাঁ মানি যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে একটা নির্ধারিত সময় লাগে - তারপরে, ব্যস উড়ে যাও, হাঁসের বাচ্চা হও তো জলে ভাসো। ছবি আঁকবে তুমি নিজে, মাষ্টারমশাই ভুল ঠিক করে দেবেন কি ? তুমি যেরকম গাছের ডাল দেখেছ তাই এঁকেছ, মাষ্টার মশাই এর মতন ডাল আঁকতে যাবে কেন ? তরকারিতে নুন বেশি হয়, ফেলে দিয়ে আবার রান্না করো; পায়েসে মিষ্টি কম হয়, মিষ্টি আরো দাও। ... বারে বারে একই বিষয় আঁকো। কিন্তু গাছের ডাল এরকম হবে, পা-টা এমনি করে আঁকতে হবে, এরকম করে শেখাবার আমি মোটেই পক্ষপাতী নই। আমি নন্দলালদের অমনি করেই শিখিয়েছি। তবে ছাত্রকে সাহস দিতে হয়, তাদের বলতে হয় এঁকে যাও, কিছু এদিক-ওদিক হয় তো আমি আছি। "
আজ সেই মহান শিল্পী শিল্পগুরু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মতিথিতে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।



