![]() |
| M F Husain with Ferrari |
সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো শিল্পীর শিল্পকর্ম অথবা তাঁর উক্তি অথবা ছবি post করলেই অনেকেই comment করেন ... 'এনার সঠিক মূল্যায়ন হলো না ... বিদেশে থাকলে এতদিনে এনার মূর্তি স্থাপন করা হত ... ইত্যাদি'। এর সাথে জুড়ে দেন এটা পোড়া দেশ, লোকজন শিল্প বোঝে না, শিল্পকলার বাজার নেই, শিল্পী না খেতে পেয়ে মারা যান ... অভিযোগের তালিকার শেষ নেই। কয়েকজন তো এতটাই অর্বাচীন যে বলে বসেন 'শিল্পী গণেশ পাইন'এরও সঠিক মূল্যায়ন হয় নি এই দেশে ... !!!
মূল্যায়ন বলতে ঠিক কি বুঝি আমরা ... প্রচুর অর্থ, নাম, পুরষ্কার, কৌলীন্য ... নাকি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করা ? শিল্পী নিজে কি চান ... সেইটাও এখানে ভাবা উচিত, বিশেষ করে এখন যে সকল তরুণরা উদ্যোমের সাথে ভালো কাজ করছেন অথবা পরীক্ষামূলক কাজে নিজেকে উজাড় করছেন ...
ব্যক্তিগত মতামত দি। শিল্পী রসিক এবং সৃষ্টিকর্তা বলে শিল্পকলায় নিজস্ব নান্দনিকতার ছাপ রেখে যান বা যাচ্ছেন। শিল্পসৃষ্টি বাদে শিল্পীর একটি জৈবিক জীবন আছে অর্থাৎ খাওয়াপড়ার চিন্তা, যৌনজীবন, সামান্য ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় এবং পারিবারিক দায়বদ্ধতা। জনগণের প্রশংসা, কাগজে লেখালেখি শিল্পীকে উদ্বুদ্ধ করে নতুন ভাবে। এই পর্যন্ত ঠিকই আছে অর্থাৎ অর্থনৈতিক ভাবে একজন কেরানির জীবন শিল্পীকে নানা নিশ্চয়তা প্রদান করে, শিল্পী নিজ কাজে নিশ্চিন্ত ভাবে মনোনিবেশ করতে পারেন। প্রশ্নটা ওঠে যখন দেখি শিল্পী হুসেন খালি পায়ে ফেরারি গাড়ী থেকে নামছেন আর তাই দেখে জনগণ ও শিল্পী উভয় ভাবতে শুরু করছেন আহা এমন জীবন যদি হত ... !!!
মনকষ্ট শুরু হয় এখান থেকে। আমরা দেখি কিন্তু খুঁটিয়ে দেখি না। হুসেনের ফেরারি গাড়ি চড়বার আগের পরিশ্রম ভুলে যাই, ভুলে যাই যে বয়সে উনি এই দ্রুতগতি সম্পন্ন গাড়ি চড়তেন তাতে করে চড়ার সেই উদ্দমতা থাকে না, থাকে এক অবচেতনের প্যাশান। একটা সময়ের পরে গণেশ পাইন এবং বিকাশ ভট্টাচার্যের খালি ক্যানভাস বিক্রি হয়ে যেত, যেখানে শিল্পী বিক্রির বেশ কিছুকাল পর ওই ক্যানভাসে ছবি শুরু করবেন ... !!! আমরা ভুলে যাই ফ্রেমগলির ফুটপাতে বসে ওই শিল্পীদের চা খাবার ঘটনা অথবা ব্যবহৃত ধুতি কেচে সেটিকে ক্যানভাসে রূপান্তর করার ঘটনা। শেষ বয়েসে উল্লিখিত শিল্পীদের অর্থনৈতিক স্ট্যাটাস কিছুটা বদলে ছিল ... আমরা ধরে নি সব শিল্পীদেরই এটি বাধ্যতামূলক ভাবে বদল ঘটবে, এবং তা শিল্পজীবনের শুরুর দিকেই ঘটবে ... যন্ত্রণা শুরু এখান থেকেই।
![]() |
| Usain Bolt |
Usain Bolt নামে ভদ্রলোককে কি আমরা চিনি, জামাইকার একটি সাদামাটা শহরের বাসিন্দার এই খেলোয়ার সর্বকালের সেরা sprinter, তাঁর আয় অথবা জীবনের উপর তৈরী সিনেমা সবাইকে হতবাক করে। একবার YouTube ঘেঁটে তাঁর প্র্যাকটিশ ভিডিওগুলি দেখে নিন ... স্বপ্ন ও বাস্তবের ফারাক সহজেই নির্ণয় হয়ে যাবে। ছেড়ে দিন, ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকরকে তো আমরা সবাই চিনি, যিনি তাঁর জীবনীতে লিখেছিলেন 'I am not only play cricket, I walk cricket, I talk cricket, I drink cricket, I sleep cricket, I wake up cricket ... its cricket, cricket, cricket 24x7' ... তবেই একজন মানুষ সর্বকালের বিশ্বসেরা ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন।
আমরা খেয়াল করি না,শিল্পীর সাথে দার্শনিক অথবা ঋষিদের বিশেষ কোনো ফারাক নেই, কারণ পথটি শিল্পীর সনির্বাচিত। যারা অল্পে সন্তুষ্ট থাকেন... বিখ্যাত বুনো রামনাথের (রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত) মতন, তিনি হলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর নবদ্বীপের বিশিষ্ট নৈয়ায়িক, পণ্ডিত ও এবং আদর্শ শিক্ষক। যার খ্যাতি তৎকালীন সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল কিন্তু তিনি এবং তাঁর পরিবার তেঁতুলপাতার ঝোলে সন্তুষ্ট ... আর যদি সেই সময়ের রাজার নাম ইতিহাসে খুঁজতে চাই ... দেখবেন সেই রাজাকে স্বল্প কয়েকটি লাইনেই সন্তুষ্ট হতে হয়েছে।
ছবি সৌজন্যতা : Google
![]() |
| Sachin Tendulkar |



সহমত
ReplyDelete