শিল্পী অনিমেষ নন্দী প্রসঙ্গ (১৯৪০-২০২০)


 শিল্পী অনিমেষ নন্দী প্রসঙ্গ (১৯৪০-২০২০)

I do paint.
It is my job and my profession.
A sincere representation is
my obligation to the society.
The bridge between my love and pleasure
is identical with others' pleasure.
This faith motivates my profession.
I have the same faith in you all.
My creation is always anursling in His hands.
-Animesh Nandi

গতকাল রাত দেড়টার সময় আমাদের ছেড়ে চিরকালের জন্য বিদায় নিলেন প্রবীণ শিল্পী অনিমেষ নন্দী মহাশয়। মুর্শিদাবাদ জেলার একটি ছোট শহরে ১৯৪০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, বাল্যকালের কিছু অংশ কাটে অধুনা বাংলাদেশের খুলনা ও ফরিদপুর জেলায়। শিল্পশিক্ষা কলিকাতার গভর্মেন্ট কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট্‌স এ। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে যুগোস্লোভিয়ার বেলগ্রেডে উপস্থিত হন। সেখানে মোজাইক ও ফ্রেস্কো নিয়ে স্নাতকোত্তর পাঠ নেবার পর আরো দুইবছর পেন্টিং নিয়ে পাঠ নেন। এরপর দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ, মিউজিয়াম পাঠ ও প্রদর্শনী করবার পর দেশে ফিরে আসেন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ১৯৬৯-৭০ সময় সাময়িক দেশে ফিরে আসেন এবং

দ্বিতীয়বারের জন্য ইউরোপে ফিরে যান। ১৯৮২ সালে দেশে ফিরে এসে পূর্ণমাত্রায় শিল্পচর্চা শুরু করেন তিনি। এইসময়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পশিক্ষক হিসাবে যোগ দেন (১৯৮৫-৯০)। পরবর্তীকাল বিখ্যাত শিল্পীদল 'ক্যালকাটা পেন্টার্স' এ সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং কিছু সময় এই দলের নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। কলিকাতায় ফেরার পর থেকে মৃত্যুর কয়েকমাস আগে পর্যন্ত দীর্ঘদিন কলিকাতা, দিল্লি, মুম্বাই ইত্যাদি বিভিন্ন শহরের একক অথবা যুগ্ম প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে রসিকজনের মান্যতা অর্জন করেছেন।
অনিমেষ নন্দী মহাশয় দীর্ঘদিন ইউরোপের বিভিন্ন শহরে কাটিয়েছেন, এই অভ্যাস ওনার ব্যবহারকে করেছে মার্জিত। কথা বলতেন খুব ধীরে ধীরে অথচ শব্দগুলি প্রয়োগ করতেন দৃঢ়তার সাথে, সমবয়সী অথবা অনুজের সাথে আলোচনা করবার সময় তাঁর শব্দচয়নে থাকত এক শ্রদ্ধা মিশ্রিত স্নেহের পরশ। তাঁর ছবিতে যে আধ্যাত্মিক চেতনা দেখা যায় তার সমৃদ্ধি ঘটেছিল ইউরোপের ফ্রেস্কো ও মোজাইক বিষয়ক শিল্পপাঠ নেবার সময় থেকে, বার বার তাঁর আলোচনায় ফিরে আসতো এক নিস্তব্ধ চার্চ ও তার অনুসঙ্গ ম্যুরালগুলি। শিল্পীর চেতনায় বাসা বেঁধেছিল বাইবেলের দর্শন, সমসাময়িক ইউরোপীয় শিল্পীদের প্রয়োগনীতি ও দর্শন। এর ফলে তাঁর রঙের প্যালেট বদলে যায়, আসে এক সুররিয়ালিজম বা পরাবাস্তববাদ যা এই বাংলা আগে কখন দেখে নি। তাঁর তেলরঙের করণকৌশলে যে নৈপুণ্য, পরিপাটি দেখা যায়, তা এককথায় অনবদ্য। এদেশে ফিরবার পর শিল্পীর প্যালেট কিন্তু পরিবর্তন করে নি বরং তার সাথে তিনি প্রয়োগ করেছেন এদেশের দর্শন, সাম্প্রতিক ঘটনা অথবা

ভারতীয় আধ্যাত্মিক চেতনার পরশ। প্রসঙ্গত তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন তাঁর ছবিতে ওয়েস্টার্ন আর্টের প্রভাব থাকলেও ফিলজফির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথের দর্শন,চিন্তার বিস্তার তাঁকে আচ্ছন্ন করেছিল।তাঁর প্যালেট তাকে ভারতবর্ষের অন্যান্য শিল্পী থেকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করেছে। এইবাংলায় তিনিই ছিলেন একমাত্র শিল্পী যার তেলরঙের নৈপুণ্যতা, রঙের প্যালেট এবং আধ্যাত্মিক ও পরাবাস্তববাদের মিলন তাকে নিয়ে গেছে এক বিরল আকাশে।
শিল্পচর্চা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি আমরা। এই বাংলার আকাশে তিনি উজ্জ্বল জোতিষ্ক হিসাবে চিরকাল বিরাজ করুন ... পথ দেখিয়ে নিয়ে চলুন অনুজ শিল্পীদের।


1 Comments

Previous Post Next Post